“দাড়িয়ে কাতার সোজা করুন” এর মাসয়ালা :-
লেখক: মুফতি কাওসার আলম দা:বা:
দাওরা হাদিস (ফাস্ট ক্লাস ফাস্ট), কামিল A+ ( হাদিস,তাফসির,ফিকাহ)
মুহাদ্দিস : ছারছিনা দারুসসুনাহ নেছারিয়া দ্বীনিয়া , নেছারাবাদ,পিরোজপুর,বরিশাল ।
সাবেক মুহাদ্দিস : দারুল আবরার মডেল মাদ্রাসা, রুপাতলী, বরিশাল ।
সাবেক মুফতি : ভান্ডারিয়া সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা, রাজবাড়ী সদর, রাজবাড়ী ।
উত্তর :- না। মুয়াজ্জিনের এই বলাটি সুন্নাহ অনুযায়ী হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে সুন্নাহ পদ্ধতিটি হচ্ছে, যা সহীহ বুখারীর বর্ণিত হাদিস শরীফ ও ফেকাহ বা ফতোয়ার কিতাব অনুযায়ী, ইকামতের পরে বলা। আর এই বলাটি মুয়াজ্জিন কর্তৃক হবে না ইমাম কর্তৃক হবে। সহীহ বুখারীর বর্ণিত হাদিস শরীফ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ ابْنُ أَبِي رَجَاءٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو، قَالَ: حَدَّثَنَا زَائِدَةُ بْنُ قُدَامَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، قَالَ: أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَأَقْبَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِوَجْهِهِ، فَقَالَ: «أَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ، وَتَرَاصُّوا، অনুবাদ :- (হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. বলেন, সালাতের ইকামত হলে নবি করিম স. আমাদের দিকে তার চেহারা ফিরাতেন। অতপর বলতেন, তোমরা তোমাদের কাতারগুলো সোজা করো এবং একে অপরের সাথে মিলে দাড়াও।) উল্লিখিত সমাধানটি আরো স্পষ্ট হবে, যদি উক্ত হাদিসের মধ্যে ব্যবহৃত (হরফে আতফ) فاء এর ব্যবহার বা প্রয়োগ ক্ষেত্র উসূলে ফিকহের আলোকে বিশ্লেষণ করা হয়। (হরফে আতফ) فاء ও واو এর মধে পার্থক্য হলো, واو আসে (الجمع المطلق) সাধারণ একত্রিতকরণ অর্থে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, (جَاءَ زَيْدٌ وَ عَمْرٌو) অর্থাৎ- যায়েদ এবং আমর এসেছে। এখানে যদিও “আমর” এর উল্লেখ পরে হয়েছে তথাপিও আগমনের ক্ষেত্রে আগ-পরের বিবেচনা হবেনা। কিন্তু যদি فاء দ্বারা বলা হয়, তাহলে আগ-পরের বিবেচনা হবে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, (جَاءَ زَيْدٌ فعَمْرٌو) অর্থাৎ- যায়েদ এসেছে অতপর আমর । এবার হদিসের মধ্যে ব্যবহৃত (হরফে আতফ) فاء এর ব্যবহার বা প্রয়োগ ক্ষেত্র বিশ্লেষণ করুন।
লেখক: মুফতি কাওসার আলম
posting by
মো: মাহমুদুল হাসান আশরাফী

Comments
Post a Comment