Skip to main content

আল্লামা নিয়াজ মাখদুম খত্তানী রহ,



معارف الختني علي سنن الترميذي

মা'য়ারিফুল খুতনি আ'লা সুনান আত তিরমিজি

লেখক, আল্লামা নিয়াজ মাখদুম খত্তানী রহ, 

মরহুম মুহাদ্দিস,  ছারছিনা দারুস্সুন্নাহ জামেয়া মাদ্রাসা 

নেছারাবাদ ,পিরোজপুর, বরিশাল  ।






 গত কয়েকদিন আগে জরুরি কিছু কিতাব অনুসন্ধান করতে গিয়ে ইউকেভিত্তিক একটি অনলাইন বুকশপ দেখছিলাম। চোখের সামনে এলো কয়েকটি দুর্লভ কিতাব। তন্মধ্যে একটি হলো বাংলাদেশি শায়খুল হাদীসের লেখা সুনানে তিরমিযীর আরবি ব্যাখ্যাগ্রন্থ। কিতাবের নাম "মাআরিফুল খুতনী আলা সুনানিত তিরমিযী"।

এটি শায়খুল হাদীস মুহাম্মদ নিয়াজ মখদুম আল-খুতনী রাহিমাহুল্লাহ রচিত একটি আরবি কিতাব।

জন্ম ও বংশ পরিচয় 

বাংলাদেশে ইলমে দ্বীন প্রসারে অন্যতম নীরব সাধক, হাজার হাজার ওলামা মাশাইখ গড়ার কারিগর আল্লামা নিয়াজ মাখদুম খোত্তানী (রঃ)। যিনি এদেশে ইলম চর্চার জন্য নিজ জন্মভূমি সুদূর রুশীয় তুর্কিস্থানের খোতান থেকে এই সবুজ বাংলায় হিজরত করেছিলেন।

আল্লামা নিয়াজ মাখদুম খোতানী (রহ.) 1914 খ্রিস্টাব্দে রুশীয় তুর্কিস্থানের খোতান প্রদেশেরউইঘুর অঞ্চলের জিংজিয়াংয়ে সম্ভ্রান্ত এক আলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বিশ শতকের গোড়ার দিকে উক্ত অঞ্চলে কমিউনিস্টবিরোধী আন্দোলনের প্রধান সেনাপতি আল্লামা নিয়াজ মাখদুম খোতানী (রহ.) অলৌকিকভাবে প্রাণে রক্ষা পেয়ে ভারতবর্ষে হিজরত করেন।

 তিনি ছিলেন চীন অধিকৃত তুর্কিস্তানের অধিবাসী।  শিক্ষার্জনের লক্ষ্যে তিনি বহু জায়গা সফর করেছেন। অবশেষে ১৩৬৪/১৯৪৪ সালে দারুল উলূম দেওবন্দ থেকে তিনি ফারিগ হন। তাঁর উস্তাদদের মধ্যে অন্যতম শায়খুল ইসলাম হোসাইন আহমদ মাদানি রাহিমাহুল্লাহ। ১৯৪৫ সালে তিনি বাংলায় (বর্তমান বাংলাদেশে) চলে আসেন। বস্তুত ছরছিনার পীর মরহুম নিছার উদ্দিন আহমদ রাহিমাহুল্লাহর অনুরোধে শায়খুল ইসলাম সাইয়েদ হুসাইন আহমদ মাদানী রাহিমাহুল্লাহ তাঁকে ছারছিনা প্রেরণ করেছিলেন। ১৯৪৫ থেকে ১৯৮৬ পর্যন্ত একাধারে ৪১ বছর তিনি ছরছিনা দারুস সুন্নাহ কামিল মাদরাসায় হাদীসের খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৮৬ সালের অক্টোবরে ঢাকায় তাঁর ইন্তেকাল হয়। হাদীস অধ্যাপনার পাশাপাশি লেখালেখি করতেও ভালবাসতেন তিনি। অবশ্য তাঁর লিখিত গ্রন্থসমূহ প্রকাশনার আলো দেখেনি। প্রাপ্ত তথ্যমতে এককালে তিনি জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম অল পাকিস্তানের সভাপতিও ছিলেন।


সামরিক বাহিনীতে ও জিহাদের ময়দানে আল্লামা খোতানী হুজুর (রঃ) :

রুশীয় বলশেভিক বিপ্লবের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে চীনারা তুর্কীদের ওপর যখন চড়াও হয়, আল্লামা নিয়ায মাখদূম খোতানী (র.) তখন কাশগড়ে অধ্যয়নরত। এ অবস্থায় তিনি স্বদেশের স্বাধীনতা এবং শাশ্বতধর্ম ইসলামের স্বকীয়তা অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য সামরিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করলেন। তাই তিনি ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে দেশীয় সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। অল্পদিনের মধ্যে স্বীয় দক্ষতা ও নৈপূণ্যের বলে একটি বাহিনীর সেনাপতি হন। আল্লামা খোতানী হুজুর যে অঞ্চলের সেনাপতি ছিলেন, সে অঞ্চলে একদিন কমিউনিস্ট বর্গীরা আক্রমণ করল। লড়াই চলল মাসের পর মাস। কয়েকটা লড়াইতে বিজয়ী হয়ে তাঁরা অবস্থান করছিলেন প্রধান দুর্গে। এ সময় তিনি বাড়ি থেকে খবর পেলেন তার একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়েছে। এটিই প্রথম সন্তান। স্ত্রী ও সন্তানের মুখ দেখার জন্য তিনি ব্যাকুল হয়ে উঠলেন। ছুটি নিলেন কিছু দিনের। ইত্যবসরে এল মারাত্মক দুঃসংবাদ। কমিউনিস্ট বাহিনী পঙ্গপালের মতো ধেয়ে আসছে। পথের জনপদে আগুন জ্বালিয়ে ছারখার করছে। তারা কাছেই এসে পড়েছে। লক্ষ্য তাদের এই দুর্গ। ছুটি বাতিল হলো। সাহায্যের আবেদন পাঠানো হলো বিভিন্ন স্থানে। প্রস্তুত হলেন মোকাবেলার জন্য। কমিউনিস্ট বাহিনী এসে অবরোধ করল দুর্গ। দীর্ঘ একমাস পর্যন্ত চলল অবরোধ। এর মধ্যে সাহায্য এলো না। এদিকে খন্ড খন্ড যুদ্ধে রসদও প্রায় শেষ। ইতোমধ্যে কমিউনিস্ট সৈন্যরা দুর্গের বহির্দেয়াল ধসিয়ে দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েছে। শিলাঝড়ের মতো বুলেটের ঝড় বয়ে যাচ্ছে। ধসে পড়েছে দুর্গের সব দেয়াল। বুলেট বিদ্ধ হয়ে একে একে শাহাদাতের অমৃত সুধা পান করছেন সাথী মুজাহিদগণ। মাথার ওপর দিয়ে, কাঁধের পাশ দিয়ে অগণিত বুলেট চলে যাচ্ছে। শত্রু এগিয়ে আসছে, আর সময় নেই। প্রচন্ড গোলাগুলির মধ্যে সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর ভরসা করে ঝাঁপ দিলেন নিচে। দেখে ফেলেছে দুশমন। গুলি চালাচ্ছে তাঁরই দিকে তাক করে। তবুও আল্লাহর বিশেষ মেহেরবাণীতে বেঁচে গেলেন আল্লামা নিয়ায মাখদূম খোতানী (র.)।।

একবার বাইশ ভাষার এক পন্ডিত আল্লামা খোতানী হুজুরের সাথে কোনো এক বিষয়ে বিতর্কে হেরে গিয়ে অবশেষে তাঁকে ‘বাহরুল উলূম’ আখ্যা দিতে বাধ্য হয়ে ছিলেন। তাঁর দরস বা পাঠদানের পদ্ধতি ছিল অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। সহজ-সরল উপস্থাপনা, সারগর্ভ বক্তব্য, সাইন্স, ফিলোসফি, বায়োলজি, এস্ট্রোলজি এক কথায় বিজ্ঞান ও দর্শনে তাঁর তাকরীর ছিল পরিপূর্ণ। তাঁর পাঠদান এতই রূহানিয়াতপূর্ণ ছিল যে, একবার মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করলে আর তা পড়তে হতো না। অসংখ্য প্রমাণ আছে যে, আল্লামা খোতানী হুজুরের দরসে বসার বরকতে অনেক ছাত্রের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতবড় জ্ঞানের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তিনি ছিলেন নিরহংকার, সহজ-সরল জীবনের অধিকারী, রিয়া বা লৌকিকতার ঊর্ধ্বে। সাধারণ একজন মানুষের প্রতি তার হৃদ্যতা, স্নেহ বা শ্রদ্ধা ছিল বিস্ময়কর। বিনয়, নম্রতা, উদারতা, সরলতা ছিল তার চরিত্রের অন্যতম ভূষণ। মানুষের হক বিশেষ করে ছাত্রদের হকের ব্যাপারে তিনি ছিলেন খুবই সজাগ। আল্লামা খোতানী হুজুর (র.) আতিথেয়তায় ছিলেন অনন্য। প্রতিটি ছাত্রকে তিনি মনে করতেন নিজ ছেলে হিসেবে। ছাত্রদের দুঃখ-বেদনায় তাঁর হৃদয় কেঁদে উঠত। তাঁর ৪০ বছর অধ্যাপনাকালে হাজার হাজার ছাত্র, দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদগণের প্রত্যেকের হৃদয়ে আল্লামা খোতানী হুজুর (র.) তার চরিত্র মাধুর্যের কারণে বিশেষ স্থান দখল করে আসছে। আল্লামা খোতানী হুজুর (র.) কখনো কোনো অহেতুক আলোচনায় সময় নষ্ট করতেন না। কিতাব মোতালায়া ছিল তাঁর অন্যতম নেশা। রাতভর তিনি কিতাব মোতালায়া করতেন। নামাযের বৈঠকের ন্যায় ছাড়া তাঁকে কেউ কোনো দিন দরসে বসতে দেখেছে কিনা জানা নেই।
আল্লামা খোতানী হুজুর (র.) ছিলেন যুগ শ্রেষ্ঠ অলী।প্রথম জীবনে দেওবন্দে তিনি মাওলানা হোসাইন আহমদ মাদানী এর হাতে বাইআত হন। পরে দেওবনদী আকিদার ভুল বুঝতে পেরে ছারছীনাতে মরহুম নেছারউদ্দিন (র.)-এর হাতে “তাজদীদে বাইআত” গ্রহণ করেন। শরিয়তের আহকামের প্রতি তিনি ছিলেন অত্যন্ত মনোযোগী। ফরজ, ওয়াজিব তো দূরের কথা প্রতিটি সুন্নাত-মুস্তাহাবের আমলে তিনি ছিলেন অভ্যস্ত। তাকওয়া-পরহেজগারীতে তিনি ছিলেন অত্যন্ত উচ্চাঙ্গ মানের।

তিনি নিজের মাতৃভূমি থেকে হিজরত করে এই সবুজ দেশটাকে ভালোবেসেছিলেন। এমনকি আমৃত্য এদেশেই ছিলেন।

উল্লেখযোগ্য ছাত্র,

মাওলানা আ.ম.ম. আহাম্মদ উল্লাহ,মাওলানা রেজওয়ানুল করিম,মাওলানা আব্দুর রব খান রহঃ।
মাওলানা আমজাদ হোসাইন রহঃ আল্লামা মোস্তফা হামিদী রহঃড. সৈয়দ শরাফত আলী, মাওলানা আব্দুর রশিদ খান রহঃ,, মাওলানা ড.কাফিল উদ্দিন সরকার,মাওলানা আবু জাফর মোহাম্মদ ছালেহ প্রমুখ।

ইনতেকাল

 দীর্ঘদিন ইলমে হাদীসের খিদমত শেষে অসংখ্য ভক্ত-অনুরক্ত রেখে ১৯৮৬ সালের ২৯ অক্টোবর বুধবার বিকেলে তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। ঢাকার আজিমপুর নতুন গোরস্তানে তাঁকে সমাহিত করা হয়। আজো সেখানে আল্লামা খোতানী হুজুরের মাযারে সর্বদা তাঁর ভক্তদের ভিড় জমে।।

যাইহোক 

মাআরিফুল খুতনী মূলত সুনানে তিরমিযীর ওপর তাঁর রচিত একটি অসম্পূর্ণ আরবি ব্যাখ্যাগ্রন্থ। বহুবছর যাবত এটিও পাণ্ডুলিপি আকারে ছিলো। পাঞ্জাবের শায়খুল হাদীস মাওলানা জলিল আহমদ আখন আল খুতনী সাহেব গ্রন্থটি আবিষ্কার করে ২০১৮ সালে ছাপানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। মাওলানা জলিল ১৪০৬/১৯৮৬ সালে জামিয়া ইসলামিয়া বিন্নুরি টাউন থেকে শিক্ষা সমাপন করেন।

বস্তুত ২০১০ সালে মাওলানা জলিল আহমদ আখন মাওলানা শাহ হাকিম আখতার রাহিমাহুল্লাহর নির্দেশে সিলেট সফরে আসেন। সেখান থেকে তিনি ঢাকায়ও গমন করেন। ঢাকায় তিনি শায়খুল হাদীস মুহাম্মদ নিয়াজ রাহিমাহুল্লাহর পরিবারের খবর শুনতে পেলেন। যেহেতু জলিল আহমদের পরিবারও চীনের ওই একই অঞ্চল থেকে পাকিস্তান গিয়েছিলেন; সেজন্য তিনি বাংলাদেশে অবস্থানকারী ওই পরিবারের সঙ্গে পরিচিত হতে আগ্রহ দেখালেন। এক সূত্রে তিনি মরহুম শায়খুল হাদীস মুহাম্মদ নিয়াজ মখদুমের মেয়ে খালেদার জামাই জেনারেল নাঈমের সাক্ষাত লাভ করেন। তার দাওয়াতে তিনি খালেদার বাসায়ও যান। এভাবে মরহুমের পরিবারের সঙ্গে মাওলানা জলিল আহমদের সখ্যতা গড়ে উঠে। এক পর্যায়ে ভদ্র মহিলা খালেদা তাকে জানালেন যে, তার আব্বা মৃত্যুর সময় ৭ জন মেয়ে সন্তান রেখে যান। কোনো ছেলে সন্তান না থাকায় পিতার ইলমি উত্তরাধিকারের কোনো যত্ন নেওয়া হয়নি। এ সময় খালেদা মাওলানা জলিল আহমদের হাতে একটি পাণ্ডুলিপি তুলে দেন। এই পাণ্ডুলিপি ছিলো মূলত সুনানে তিরমিযীর ওপর রচিত একটি আরবি গ্রন্থ। সেই পাণ্ডুলিপি নিয়ে এসে তিনি পাকিস্তান থেকে তা প্রকাশের ব্যবস্থা করেন।

এই আরবি ব্যাখ্যাগ্রন্থে সুনানে তিরমিযীর আবওয়াবুত তাহারা থেকে আবওয়াবুল বুয়ূ পর্যন্ত এসেছে। অর্থাৎ এটি পুরো কিতাবের ব্যাখ্যাগ্রন্থ নয়। শুরুতে হাদীস বিষয়ক সংক্ষিপ্ত একটি ভূমিকাও রয়েছে। ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে তিনি সংক্ষিপ্ততার পথ বেছে নিয়েছেন। ফিকহি মাসায়েলের কিছুটা বিশদ পর্যালোচনা করেছেন। হানাফি ফিকহের প্রাধান্য দিতে গিয়ে বহু প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন। কখনও যুক্তির নিরিখে হাদীসের সত্যতা তুলে ধরেছেন। মোটকথা, সংক্ষিপ্ত হলেও জানার মতো কিছু বিষয়ও পাওয়া যায় বাংলাদেশি শায়খুল হাদীসের লেখা এই আরবি ব্যাখ্যাগ্রন্থে।

যদিও তিনি জন্মসূত্রে তুর্কিস্তানি, কিন্তু বাংলাদেশেই তাঁর কর্মজীবন কেটেছে। ছরছিনা মাদরাসায় তিনি চীনের হুযুর হিসেবে সমধিক প্রসিদ্ধ ছিলেন।

মাওলানা জলিল আহমদ সাহেবের আন্তরিক শুকরিয়া জানাই। তাঁর মাধ্যমেই আমরা এমন তুরাস এর সন্ধান পেলাম। তবে কিতাবটি ছাপানোর ক্ষেত্রে অন্য কেউ চাইলে আরও কিছু কাজ করতে পারেন। এতে আধুনিক মানসম্মত ছাপায় আরও যুৎসই তাহকিকের মাধ্যমে কাজটি ইলমি দুনিয়ায় সমাদৃত হতে পারে।

Posted by 

মো, মাহমুদুল হাসান আশরাফী 

Comments

Popular posts from this blog

শিক্ষকদের প্রতি সম্মান ও তাদের খেদমত

শিক্ষকদের প্রতি সম্মান ও তাদের খেদমত:-  মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ কাওসার আলম দা:বা: দাওরা হাদিস (ফাস্ট ক্লাস ফাস্ট), কামিল  A+ ( হাদিস,তাফসির,ফিকাহ) মুহাদ্দিস :  ছারছিনা দারুসসুনাহ নেছারিয়া দ্বীনিয়া , নেছারাবাদ,পিরোজপুর,বরিশাল । সাবেক  মুহাদ্দিস  :  দারুল আবরার মডেল মাদ্রাসা, রুপাতলী, বরিশাল  । সাবেক  মুফতি   :  ভান্ডারিয়া সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা, রাজবাড়ী সদর, রাজবাড়ী  । بسم الله الرحمن الرحيم- الحمد لله رب العالمين- و الصلاة و السلام على معلم الإنس و الجان، سيدنا محمد العربى- على آلهٖ و أصحابه أجمعين- أما بعد: হে প্রিয় বৎস! যে তোমাকে ইলমে দীনের একটি হরফ শিক্ষা দিয়েছে, সে তোমার পিতা সমতুল্য। তার অধিকার রক্ষা করা তোমার উপর ওয়াজীব, যেমন রক্ষা করা ওয়াজীব পিতা-মাতার অধিকার। যেনে রেখো! শিক্ষক যদি মুত্তাকী-পরহেজগ ার হয়, তাহলে তার অধিকার পিতা-মাতার চেয়েও বেশী। কথাটি বুঝিয়ে বলছি, শুনে রেখো, হে বৎস! পিতা-মাতা সন্তানের হাত ধরে দুনিয়ার আগুণ থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়। কিন্তু দীনি শিক্ষক তোমাকে দীন শিখিয়ে জাহান্নামের আগুণ ...

“দাড়িয়ে কাতার সোজা করুন” এর মাসয়ালা

“দাড়িয়ে কাতার সোজা করুন” এর মাসয়ালা :- লেখক: মুফতি কাওসার আলম দা:বা: দাওরা হাদিস (ফাস্ট ক্লাস ফাস্ট), কামিল  A+ ( হাদিস,তাফসির,ফিকাহ) মুহাদ্দিস :  ছারছিনা দারুসসুনাহ নেছারিয়া দ্বীনিয়া , নেছারাবাদ,পিরোজপুর,বরিশাল । সাবেক  মুহাদ্দিস  :  দারুল আবরার মডেল মাদ্রাসা, রুপাতলী, বরিশাল  । সাবেক  মুফতি   :  ভান্ডারিয়া সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা, রাজবাড়ী সদর, রাজবাড়ী  । প্রায়   মসজিদগুলোতে দেখা যায়, মুয়াজ্জিন বা অন্য কেউ একামতের পূর্বেই বলে থাকেন, “দাড়িয়ে কাতার সোজা করুন”। আর মুসল্লিগণ সবাই দাড়িয়ে যায়। এখন প্রশ্ন হলো, মুয়াজ্জিনের এই বলাটি কি সুন্নাহ অনুযায়ী হচ্ছে? যদি না হয়, তাহলে এ ক্ষেত্রে সুন্নাহ পদ্ধতিটি কী? আরেকটি প্রশ্ন হয়, এই বলাটি কি মুয়াজ্জিন কর্তৃক হবে না ইমাম কর্তৃক হবে? উত্তর :- না। মুয়াজ্জিনের এই বলাটি সুন্নাহ অনুযায়ী হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে সুন্নাহ পদ্ধতিটি হচ্ছে, যা সহীহ বুখারীর বর্ণিত হাদিস শরীফ ও ফেকাহ বা ফতোয়ার কিতাব অনুযায়ী, ইকামতের পরে বলা। আর এই বলাটি মুয়াজ্জিন কর্তৃক হবে না ইমাম কর্তৃক হবে। সহীহ বুখারীর ...