Skip to main content

বিতর নামাজ কত রাকআত?

বিতর নামাজ কত রাকআত?

লেখক: মুফতি কাওসার আলম  দা.বা.
দাওরা হাদিস (ফাস্ট ক্লাস ফাস্ট), কামিল  A+ ( হাদিস,তাফসির,ফিকাহ)
মুহাদ্দিস : ছারছিনা দারুসসুনাহ নেছারিয়া দ্বীনিয়া , নেছারাবাদ,পিরোজপুর,বরিশাল ।
সাবেক মুহাদ্দিস : দারুল আবরার মডেল মাদ্রাসা, রুপাতলী, বরিশাল  ।

সাবেক মুফতি ভান্ডারিয়া সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা, রাজবাড়ী সদর, রাজবাড়ী  ।


বিতর নামাজ তিন রাকআত। যারা বলেন, বিতর নামাজ এক রাকআত, তাদের স্বপক্ষে স্পষ্ট কোনো দলিল নেই। তিন রাকআতের দলিল ******(১) সহীহ বুখারী শরীফের হাদিস, عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا كَيْفَ كَانَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي رَمَضَانَ؟ فَقَالَتْ: «مَا كَانَ يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ وَلاَ فِي غَيْرِهِ عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يُصَلِّي أَرْبَعًا، فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ثُمَّ يُصَلِّي ثَلاَثًا অর্থাৎ- আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান থেকে বর্ণিত, তিনি হযরত আয়েশা রা. কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, রাসূল (দ) এর রমজানে রাতের নামাজ কেমন ছিল? তিনি উত্তরে বললেন, নবি করিম (দ) রমজানে এবং রমজানের বাহিরে রাতে (ইশার নামাজ ব্যতিত) ১১ রাকআতের বেশী নামাজ পড়তেন না। তিনি প্রথমে ৪ রাকআত এমনভাবে পড়তেন যে, তোমার সে নামাজের সুন্দয© ও দীর্ঘ হওয়ার ব্যাপারে তোমার প্রশ্ন করার অপেক্ষা রাখে না। অতপর আবার ৪ রাকআত এমনভাবে পড়তেন যে, তোমার সে নামাজের সুন্দয© ও দীর্ঘ হওয়ার ব্যাপারে তোমার প্রশ্ন করার অপেক্ষা রাখে না। অতপর তিনি তিন রাকআত (বিতর) পড়তেন। প্রিয় পাঠক, উক্ত হাদিসের প্রতি একটু লক্ষ্য করুন। এখানে সুস্পষ্ট তিন রাকআতের উল্লেখ হয়েছে। আরো একটু গবেষণার দৃষ্টিতে লক্ষ্য করুন। আমাদের সমাজের লা মাযহাবীরা অর্থাৎ প্রচলিত আহলে হাদিস ভাইয়েরা এ হাদিসকেই তারাবীহ নামাজ ৮ রাকআতের পক্ষে দলিল হিসাবে দাড় করিয়ে থাকেন। (যদিও এ হাদিসে তারাবীহর নামাজ ৮ রাকআত হওয়ার স্বপক্ষে সুস্পষ্ট দলিল নেই) আবার তারাই বলেন, বিতর নামাজ এক রাকআত। তাহলে তাদের জন্য এ হাদিসটি কি বিতর নামাজ তিন রাকআত হওয়ার দলিল নয়?
****** দলিল (২) তিরমিজী, আবু দাউদ, ইবনে মাযাহ, মুসনাদে আহমাদ ও ইবনে হিব্বানের বর্ণিত সহীহ হাদিস, وَعَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ جُرَيْجٍ قَالَ: «سَأَلْنَا عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، بِأَيِّ شَيْءٍ كَانَ يُوتِرُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَتْ: " كَانَ يَقْرَأُ فِي الْأُولَى بِـ {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى} وَفِي الثَّانِيَةِ بِـ {قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ وَفَى الثَّالِثَةِ بِـ {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} وَالْمُعَوِّذَتَيْنِ অর্থাৎ- আব্দুল আজীজ ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা হযরত আয়েশা রা. কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, রাসুল (দ) বিতর নামাজ কিভাবে পড়তেন? তিনি উত্তরে বললেন, নবি (দ) বিতরের ১ম রাকআতে সূরায় আ’লা, ২য় রাকআতে সূরায় কাফিরূন ও ৩য় রাকআতে সূরায় ইখলাস ও সূরা নাস,ফালাক পড়তেন। 
আর যে সকল হাদিসে এক এর কথা বলা হয়েছে, তার ব্যাখ্যা হলো, কোনো নামাজকে বিতর (বিজোড়) করতে হলে এক দ্বারাই বিতর (বিজোড়) করতে হয়। অতএব একথা বলার সুযোগ নেই যে, বিতর নামাজ এক রাকআত। 
****** দলিল (৩) আকলের যুক্তিও বিতর নামাজ ৩ রাকআত, এক রাকআত নয়। কারণ, নামাজ হয়তো ফরজ অথবা সুন্নাত অথবা নফল হয়ে থাকে। আর ফরজ নামাজ হয়তো ৪ রাকআত বিশিষ্ট (যহুর, আসর, ঈশা) আথবা ৩ রাকআত বিশিষ্ট (মাগরীব) বা ২ রাকআত বিশিষ্ট (ফজর)। আতএব ফরজ হিসাবে ১ রাকআত বলতে কোনো নামাজ নেই। আর নামাজ যদি সুন্নাত হয়, তাহলে তা হবে ৪ রাকআত বিশিষ্ট বা ২ রাকআত বিশিষ্ট। অতএব বুঝা গেলো সুন্নাত নামাজ ১ বা ৩ রাকআত হবে না। আর নামাজ যদি নফল হয়, তাহলে তা সংখ্যায় সুন্নাতের মতই হবে। এবার সমাধান স্বরূপ বলা যায়, বিতর নামাজ কারো মতেই ফরজ নয়। আর যারা বলবে সুন্নাত বা নফল তাদের ১ বা ৩ রাকআত বলার কোনোই সুযোগ নাই। কারণ সুন্নাত নামাজ বিজোড় সংখ্যায় হওয়ার দৃষ্টান্ত ইসলামি শরীয়তে নাই। আর যারা (হানাফি) বলেন, বিতর নামাজ তিন রাকআত। তারা বলেন, বিতর নামাজ ওয়াজীব। আর হানাফিদের নিকট ফরজ ও ওয়াজীবের হুকুম একই। অতএব ফরজ নামাজ যেমনিভাবে ৩ রাকআত আছে অনুরূপভাবে বিতর নামাজ ৩ রাকআত, যা হুকুমের দিক থেকে ফরজের মত।

লেখক: মুফতি কাওসার আলম  দা.বা.
posting by 
মো:মাহমুদুল হাসান আশরাফী  

Comments

Popular posts from this blog

আল্লামা নিয়াজ মাখদুম খত্তানী রহ,

معارف الختني علي سنن الترميذي মা'য়ারিফুল খুতনি আ'লা সুনান আত তিরমিজি লেখক, আল্লামা নিয়াজ মাখদুম খত্তানী রহ,  মরহুম মুহাদ্দিস,  ছারছিনা দারুস্সুন্নাহ জামেয়া মাদ্রাসা  নেছারাবাদ ,পিরোজপুর, বরিশাল  ।  গত কয়েকদিন আগে জরুরি কিছু কিতাব অনুসন্ধান করতে গিয়ে ইউকেভিত্তিক একটি অনলাইন বুকশপ দেখছিলাম। চোখের সামনে এলো কয়েকটি দুর্লভ কিতাব। তন্মধ্যে একটি হলো বাংলাদেশি শায়খুল হাদীসের লেখা সুনানে তিরমিযীর আরবি ব্যাখ্যাগ্রন্থ। কিতাবের নাম " মাআরিফুল খুতনী আলা সুনানিত তিরমিযী"। এটি শায়খুল হাদীস মুহাম্মদ নিয়াজ মখদুম আল-খুতনী রাহিমাহুল্লাহ রচিত একটি আরবি কিতাব। জন্ম ও বংশ পরিচয়  বাংলাদেশে ইলমে দ্বীন প্রসারে অন্যতম নীরব সাধক, হাজার হাজার ওলামা মাশাইখ গড়ার কারিগর আল্লামা নিয়াজ মাখদুম খোত্তানী (রঃ)। যিনি এদেশে ইলম চর্চার জন্য নিজ জন্মভূমি সুদূর রুশীয় তুর্কিস্থানের খোতান থেকে এই সবুজ বাংলায় হিজরত করেছিলেন। আল্লামা নিয়াজ মাখদুম খোতানী (রহ.) 1914 খ্রিস্টাব্দে রুশীয় তুর্কিস্থানের খোতান প্রদেশের উইঘুর অঞ্চলের জিংজিয়াংয়ে  সম্ভ্রান্ত এক আলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বিশ শতকের গোড়ার দি...

শিক্ষকদের প্রতি সম্মান ও তাদের খেদমত

শিক্ষকদের প্রতি সম্মান ও তাদের খেদমত:-  মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ কাওসার আলম দা:বা: দাওরা হাদিস (ফাস্ট ক্লাস ফাস্ট), কামিল  A+ ( হাদিস,তাফসির,ফিকাহ) মুহাদ্দিস :  ছারছিনা দারুসসুনাহ নেছারিয়া দ্বীনিয়া , নেছারাবাদ,পিরোজপুর,বরিশাল । সাবেক  মুহাদ্দিস  :  দারুল আবরার মডেল মাদ্রাসা, রুপাতলী, বরিশাল  । সাবেক  মুফতি   :  ভান্ডারিয়া সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা, রাজবাড়ী সদর, রাজবাড়ী  । بسم الله الرحمن الرحيم- الحمد لله رب العالمين- و الصلاة و السلام على معلم الإنس و الجان، سيدنا محمد العربى- على آلهٖ و أصحابه أجمعين- أما بعد: হে প্রিয় বৎস! যে তোমাকে ইলমে দীনের একটি হরফ শিক্ষা দিয়েছে, সে তোমার পিতা সমতুল্য। তার অধিকার রক্ষা করা তোমার উপর ওয়াজীব, যেমন রক্ষা করা ওয়াজীব পিতা-মাতার অধিকার। যেনে রেখো! শিক্ষক যদি মুত্তাকী-পরহেজগ ার হয়, তাহলে তার অধিকার পিতা-মাতার চেয়েও বেশী। কথাটি বুঝিয়ে বলছি, শুনে রেখো, হে বৎস! পিতা-মাতা সন্তানের হাত ধরে দুনিয়ার আগুণ থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়। কিন্তু দীনি শিক্ষক তোমাকে দীন শিখিয়ে জাহান্নামের আগুণ ...

“দাড়িয়ে কাতার সোজা করুন” এর মাসয়ালা

“দাড়িয়ে কাতার সোজা করুন” এর মাসয়ালা :- লেখক: মুফতি কাওসার আলম দা:বা: দাওরা হাদিস (ফাস্ট ক্লাস ফাস্ট), কামিল  A+ ( হাদিস,তাফসির,ফিকাহ) মুহাদ্দিস :  ছারছিনা দারুসসুনাহ নেছারিয়া দ্বীনিয়া , নেছারাবাদ,পিরোজপুর,বরিশাল । সাবেক  মুহাদ্দিস  :  দারুল আবরার মডেল মাদ্রাসা, রুপাতলী, বরিশাল  । সাবেক  মুফতি   :  ভান্ডারিয়া সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা, রাজবাড়ী সদর, রাজবাড়ী  । প্রায়   মসজিদগুলোতে দেখা যায়, মুয়াজ্জিন বা অন্য কেউ একামতের পূর্বেই বলে থাকেন, “দাড়িয়ে কাতার সোজা করুন”। আর মুসল্লিগণ সবাই দাড়িয়ে যায়। এখন প্রশ্ন হলো, মুয়াজ্জিনের এই বলাটি কি সুন্নাহ অনুযায়ী হচ্ছে? যদি না হয়, তাহলে এ ক্ষেত্রে সুন্নাহ পদ্ধতিটি কী? আরেকটি প্রশ্ন হয়, এই বলাটি কি মুয়াজ্জিন কর্তৃক হবে না ইমাম কর্তৃক হবে? উত্তর :- না। মুয়াজ্জিনের এই বলাটি সুন্নাহ অনুযায়ী হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে সুন্নাহ পদ্ধতিটি হচ্ছে, যা সহীহ বুখারীর বর্ণিত হাদিস শরীফ ও ফেকাহ বা ফতোয়ার কিতাব অনুযায়ী, ইকামতের পরে বলা। আর এই বলাটি মুয়াজ্জিন কর্তৃক হবে না ইমাম কর্তৃক হবে। সহীহ বুখারীর ...