Skip to main content

বাদশাহী আর গণতন্ত্রের মধ্য কিছু পার্থক্য

বাদশাহী আর গণতন্ত্রের মধ্য কিছু পার্থক্য:-

মাওলানা ইমরান মাহমুদ  দা:বা:


বাদশাহীর সবছেয়ে বড় পজেটিভ দিক হচ্ছে এটাই যে, বাদশাহকে আল্লাহর বিধান কায়েম করতে বা কায়েম রাখতে কোন প্রকার বিল পাশ, কারো অনুমোদন, কারো সমর্থনের তোয়াক্কা করতে হয় না।কোন দেশ কি বললো, কে কিভাবে নিল, জনগণের পছন্দ কি অপছন্দ ইত্যাদি কোন কিছুই বাদশাহকে আটকাতে পারে না। আল্লাহ নিজেই একনায়কতান্ত্রিক, স্বৈরাচারি। কাজেই তাঁর বিধান কায়েম করতে ও কায়েম রাখতে একনায়কতান্ত্রিক, স্বৈরাচারি বাদশাহীর কোন বিকল্প নাই।বাদশাহ ইচ্ছা করলেই আল্লাহর বিধান জারি করার ক্ষমতা রাখেন। এতে কারো আপত্তি করার বিন্দুমাত্র সুযোগ সেখানে থাকে না। ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায়, সর্বাবস্থায় আনুগত্য করতে বাধ্য থাকে জনগণ।

বাদশাহ ভালো মন্দ দুটোই হতে পারে। আল্লাহভীরু যেমন হতে পারে তেমনি আস্ত শয়তানও হতে পারে। বাদশাহ নিজের মন মত শাসন করতে পারেন অথবা আল্লাহর বিধান দিয়েও শাসন করতে পারেন। যদি বাদশাহ আল্লাহভীরু হয় এবং আল্লাহর বিধান দিয়ে শাসন করে তবে তার শাসন হবে খিলাফতের আদলে। নতুবা তার শাসনকাল শুধুই বাদশাহী-ই হয়ে থাকবে।

মুসলিমদের স্বর্ণালী যুগের ইতিহাস সৃষ্টি হওয়ার মূখ্য কারণ হচ্ছে বারো’শ বছর পর্যন্ত বাদশাহী শাসন ব্যবস্থা। যখনই গণতন্ত ও সমাজতন্ত্রের মধ্যে মুসলিমরা মুক্তি তালাশ করতে গেল-তখন থেকেই তাদের ধ্বংশের সিলসিলাহ চালু হলো যা আজো বিরাজমান।মুসলিম শাসকদের মধ্যে যখনই কোন ভাল শাসক/বাদশাহ এলো তখনি মুসলিমরা উন্নতির চরম উৎকর্ষ সাধন করতো। যদিও কিছু মন্দ শাসক মাঝে মাঝে এসে মুসলিমদের ক্ষতি সাধন করেছিল, তথাপি তা মুসলিমদের উন্নতির কাছে নস্যি। গোটা পৃথিবী অধিকাংশই মুসলিমদের ক্ষমতার অধীন হয়ে গিয়েছিল। বাদশাহী ব্যবস্থা না হয়ে যদি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা হতো তখন, তাহলে এখনকার অবস্থা তখনই সৃষ্টি হয়ে যেত। গণতন্ত্র দিয়ে আজ পর্যন্ত ইসলাম ও মুসলিমের এক পয়সার উপকারও হয়নি। গণতান্ত্রিক মুসলিম দেশ মানেই অকাল কুষ্মান্ডের দেশ। যারা পৃথিবীতে শুধু খেয়ে-ঘুমিয়ে-মোজ-মাস্তি করেই হায়াত শেষ করতে পারে, কিন্তু ইসলাম ও মুসলিমের কোন কল্যাণ-ই তারা অর্জন করতে পারে না, শান্তিও স্থাপন করতে পারে না।
গণতন্ত্র মুসলিমদের নিরস্ত্র করে দিয়েছে, শত দলে ভাগ করে দিয়েছে, ভাইকে শত্রুতে পরিণত করেছে, কোন্দলের মাধ্যমে ফিৎনায় নিমজ্জিত করেছে, কাজের পরিবর্তে অকাজে ব্যস্ত করে দিয়েছে, আল্লাহর বিধানকে অপমান করেছে, আল্লাহর বিধানকে মানুষের (সাংসদের) অনুমোদনের বিষয় বানিয়েছে, মিশ্র অর্থনীতি তথা সূদী ও জুলূমবাজ অর্থনীতিতে ডুবিয়ে দিয়েছে, ক্ষমতার জন্য কামড়াকামড়িতে লিপ্ত করে দিয়েছে, দুনিয়ালোভী মোল্লাদের ইসলাম বিক্রি করে খাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে, কুরআন-সুন্নাহর অপব্যাখ্যার দ্বার উন্মোচিত করে দিয়েছে, অশ্লীলতা-বেহায়াপনার পথকে প্রসারিত করেছে, মুসলিমদের-মুমিনদের চলার পথ সংকীর্ণ করে দিয়েছে, আল্লাহর জমীনকে মানুষের জন্য সংকীর্ণ ও কণ্টকাকীর্ণ করেছে, মুসলিমদের আজ কোন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নাই, একটি নিয়মিত সেনা-বাহিনী নাই যারা জিহাদ করবে, একদল দাঈ ইলাল্লাহ নাই যারা আল্লাহর দিকে কাফেরদের আহবান করবে, কাফেররা মুসলিমদের হত্যা-নির্যাতন করলেও মুসলিমরা ওহ্ শব্দটিও উচ্চারণ করতে পারছে না, চতুর্দিক থেকে মুসলিমরা কোনঠাসা হয়ে গেছে, কাফেরদের বিশ্ব মোড়ল হিসেবে মানতে বাধ্য হচ্ছে, কাফের লিডারদের সন্তুষ্ট রাখতে বাধ্য হচ্ছে, তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে বাধ্য হচ্ছে, বিধর্মীদের অনুকরণ করতে বাধ্য হচ্ছে, তাদের সাথে বিভিন্ন চুক্তিতে আবদ্ধ থাকতে বাধ্য হচ্ছে ইত্যাদি।

স্বয়ং কাফেররাই এই গণতন্ত্রের প্রকৃত অসারতা উপলব্ধি করতে পারলেও হতভাগা মুসলিমরা আজও তা উপলব্ধি করতে পারছে না।গণতন্ত্র মূলত ইসলাম ও মুসলিমের বিরুদ্ধেই কার্যকরী। ইসলামের স্বপক্ষে এর কোন ভূমিকা-ই নাই। আধুনিক এই যুগেও ইসলামের সামান্য অনুসরণের মাধ্যমেও একমাত্র সৌদি-আরবে যে পরিমাণ শান্তি-স্থিতি-নিরাপত্তা কায়েম রয়েছে, তা দেখে যে কোন ব্যক্তিমাত্রই উপলব্ধি করতে পারে যে, ইসলামের পূর্ণ অনুসরণ করতে পারলে তাতে কি পরিমাণ প্রভাব-প্রতিপত্তি-শান্তি-নিরাপত্তা কায়েম হতে পারে ! সেই সাথে এটাও উপলব্ধি করতে পারবে যে, একমাত্র বাদশাহী শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমেই ইসলামের পূর্ণ অনুসরণে ইসলামী শাসনব্যবস্থার পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব ! আর অন্যান্য সকল মত-পথ-তন্ত্র যে এক্ষেত্রে একেবারেই অকার্যকর বরং হিতে বিপরীত, তাও উপলব্ধি করতে পারবে। সত্যিতো এটাই যে, বিষয়টা শুধুমাত্র উপলব্ধির-ই নয়, বরং এটিতো প্রমাণিত। বাদশাহী ব্যতীত এ যাবৎ কোথাও কেউ শান্তি কায়েম করতে পারেনি, পারবে ও না ।


Posted by

MD Mahmudul Hassan ashrafi

Comments

Popular posts from this blog

আল্লামা নিয়াজ মাখদুম খত্তানী রহ,

معارف الختني علي سنن الترميذي মা'য়ারিফুল খুতনি আ'লা সুনান আত তিরমিজি লেখক, আল্লামা নিয়াজ মাখদুম খত্তানী রহ,  মরহুম মুহাদ্দিস,  ছারছিনা দারুস্সুন্নাহ জামেয়া মাদ্রাসা  নেছারাবাদ ,পিরোজপুর, বরিশাল  ।  গত কয়েকদিন আগে জরুরি কিছু কিতাব অনুসন্ধান করতে গিয়ে ইউকেভিত্তিক একটি অনলাইন বুকশপ দেখছিলাম। চোখের সামনে এলো কয়েকটি দুর্লভ কিতাব। তন্মধ্যে একটি হলো বাংলাদেশি শায়খুল হাদীসের লেখা সুনানে তিরমিযীর আরবি ব্যাখ্যাগ্রন্থ। কিতাবের নাম " মাআরিফুল খুতনী আলা সুনানিত তিরমিযী"। এটি শায়খুল হাদীস মুহাম্মদ নিয়াজ মখদুম আল-খুতনী রাহিমাহুল্লাহ রচিত একটি আরবি কিতাব। জন্ম ও বংশ পরিচয়  বাংলাদেশে ইলমে দ্বীন প্রসারে অন্যতম নীরব সাধক, হাজার হাজার ওলামা মাশাইখ গড়ার কারিগর আল্লামা নিয়াজ মাখদুম খোত্তানী (রঃ)। যিনি এদেশে ইলম চর্চার জন্য নিজ জন্মভূমি সুদূর রুশীয় তুর্কিস্থানের খোতান থেকে এই সবুজ বাংলায় হিজরত করেছিলেন। আল্লামা নিয়াজ মাখদুম খোতানী (রহ.) 1914 খ্রিস্টাব্দে রুশীয় তুর্কিস্থানের খোতান প্রদেশের উইঘুর অঞ্চলের জিংজিয়াংয়ে  সম্ভ্রান্ত এক আলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বিশ শতকের গোড়ার দি...

শিক্ষকদের প্রতি সম্মান ও তাদের খেদমত

শিক্ষকদের প্রতি সম্মান ও তাদের খেদমত:-  মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ কাওসার আলম দা:বা: দাওরা হাদিস (ফাস্ট ক্লাস ফাস্ট), কামিল  A+ ( হাদিস,তাফসির,ফিকাহ) মুহাদ্দিস :  ছারছিনা দারুসসুনাহ নেছারিয়া দ্বীনিয়া , নেছারাবাদ,পিরোজপুর,বরিশাল । সাবেক  মুহাদ্দিস  :  দারুল আবরার মডেল মাদ্রাসা, রুপাতলী, বরিশাল  । সাবেক  মুফতি   :  ভান্ডারিয়া সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা, রাজবাড়ী সদর, রাজবাড়ী  । بسم الله الرحمن الرحيم- الحمد لله رب العالمين- و الصلاة و السلام على معلم الإنس و الجان، سيدنا محمد العربى- على آلهٖ و أصحابه أجمعين- أما بعد: হে প্রিয় বৎস! যে তোমাকে ইলমে দীনের একটি হরফ শিক্ষা দিয়েছে, সে তোমার পিতা সমতুল্য। তার অধিকার রক্ষা করা তোমার উপর ওয়াজীব, যেমন রক্ষা করা ওয়াজীব পিতা-মাতার অধিকার। যেনে রেখো! শিক্ষক যদি মুত্তাকী-পরহেজগ ার হয়, তাহলে তার অধিকার পিতা-মাতার চেয়েও বেশী। কথাটি বুঝিয়ে বলছি, শুনে রেখো, হে বৎস! পিতা-মাতা সন্তানের হাত ধরে দুনিয়ার আগুণ থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়। কিন্তু দীনি শিক্ষক তোমাকে দীন শিখিয়ে জাহান্নামের আগুণ ...

“দাড়িয়ে কাতার সোজা করুন” এর মাসয়ালা

“দাড়িয়ে কাতার সোজা করুন” এর মাসয়ালা :- লেখক: মুফতি কাওসার আলম দা:বা: দাওরা হাদিস (ফাস্ট ক্লাস ফাস্ট), কামিল  A+ ( হাদিস,তাফসির,ফিকাহ) মুহাদ্দিস :  ছারছিনা দারুসসুনাহ নেছারিয়া দ্বীনিয়া , নেছারাবাদ,পিরোজপুর,বরিশাল । সাবেক  মুহাদ্দিস  :  দারুল আবরার মডেল মাদ্রাসা, রুপাতলী, বরিশাল  । সাবেক  মুফতি   :  ভান্ডারিয়া সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা, রাজবাড়ী সদর, রাজবাড়ী  । প্রায়   মসজিদগুলোতে দেখা যায়, মুয়াজ্জিন বা অন্য কেউ একামতের পূর্বেই বলে থাকেন, “দাড়িয়ে কাতার সোজা করুন”। আর মুসল্লিগণ সবাই দাড়িয়ে যায়। এখন প্রশ্ন হলো, মুয়াজ্জিনের এই বলাটি কি সুন্নাহ অনুযায়ী হচ্ছে? যদি না হয়, তাহলে এ ক্ষেত্রে সুন্নাহ পদ্ধতিটি কী? আরেকটি প্রশ্ন হয়, এই বলাটি কি মুয়াজ্জিন কর্তৃক হবে না ইমাম কর্তৃক হবে? উত্তর :- না। মুয়াজ্জিনের এই বলাটি সুন্নাহ অনুযায়ী হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে সুন্নাহ পদ্ধতিটি হচ্ছে, যা সহীহ বুখারীর বর্ণিত হাদিস শরীফ ও ফেকাহ বা ফতোয়ার কিতাব অনুযায়ী, ইকামতের পরে বলা। আর এই বলাটি মুয়াজ্জিন কর্তৃক হবে না ইমাম কর্তৃক হবে। সহীহ বুখারীর ...