বাদশাহী আর গণতন্ত্রের মধ্য কিছু পার্থক্য:-
বাদশাহীর সবছেয়ে বড় পজেটিভ দিক হচ্ছে এটাই যে, বাদশাহকে আল্লাহর বিধান কায়েম করতে বা কায়েম রাখতে কোন প্রকার বিল পাশ, কারো অনুমোদন, কারো সমর্থনের তোয়াক্কা করতে হয় না।কোন দেশ কি বললো, কে কিভাবে নিল, জনগণের পছন্দ কি অপছন্দ ইত্যাদি কোন কিছুই বাদশাহকে আটকাতে পারে না। আল্লাহ নিজেই একনায়কতান্ত্রিক , স্বৈরাচারি। কাজেই তাঁর বিধান কায়েম করতে ও কায়েম রাখতে একনায়কতান্ত্রিক , স্বৈরাচারি বাদশাহীর কোন বিকল্প নাই।বাদশাহ ইচ্ছা করলেই আল্লাহর বিধান জারি করার ক্ষমতা রাখেন। এতে কারো আপত্তি করার বিন্দুমাত্র সুযোগ সেখানে থাকে না। ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায়, সর্বাবস্থায় আনুগত্য করতে বাধ্য থাকে জনগণ।
বাদশাহ ভালো মন্দ দুটোই হতে পারে। আল্লাহভীরু যেমন হতে পারে তেমনি আস্ত শয়তানও হতে পারে। বাদশাহ নিজের মন মত শাসন করতে পারেন অথবা আল্লাহর বিধান দিয়েও শাসন করতে পারেন। যদি বাদশাহ আল্লাহভীরু হয় এবং আল্লাহর বিধান দিয়ে শাসন করে তবে তার শাসন হবে খিলাফতের আদলে। নতুবা তার শাসনকাল শুধুই বাদশাহী-ই হয়ে থাকবে।
মুসলিমদের স্বর্ণালী যুগের ইতিহাস সৃষ্টি হওয়ার মূখ্য কারণ হচ্ছে বারো’শ বছর পর্যন্ত বাদশাহী শাসন ব্যবস্থা। যখনই গণতন্ত ও সমাজতন্ত্রের মধ্যে মুসলিমরা মুক্তি তালাশ করতে গেল-তখন থেকেই তাদের ধ্বংশের সিলসিলাহ চালু হলো যা আজো বিরাজমান।মুসলিম শাসকদের মধ্যে যখনই কোন ভাল শাসক/ বাদশাহ এলো তখনি মুসলিমরা উন্নতির চরম উৎকর্ষ সাধন করতো। যদিও কিছু মন্দ শাসক মাঝে মাঝে এসে মুসলিমদের ক্ষতি সাধন করেছিল, তথাপি তা মুসলিমদের উন্নতির কাছে নস্যি। গোটা পৃথিবী অধিকাংশই মুসলিমদের ক্ষমতার অধীন হয়ে গিয়েছিল। বাদশাহী ব্যবস্থা না হয়ে যদি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা হতো তখন, তাহলে এখনকার অবস্থা তখনই সৃষ্টি হয়ে যেত। গণতন্ত্র দিয়ে আজ পর্যন্ত ইসলাম ও মুসলিমের এক পয়সার উপকারও হয়নি। গণতান্ত্রিক মুসলিম দেশ মানেই অকাল কুষ্মান্ডের দেশ। যারা পৃথিবীতে শুধু খেয়ে-ঘুমিয়ে-মোজ-মাস্ত ি করেই হায়াত শেষ করতে পারে, কিন্তু ইসলাম ও মুসলিমের কোন কল্যাণ-ই তারা অর্জন করতে পারে না, শান্তিও স্থাপন করতে পারে না।
গণতন্ত্র মুসলিমদের নিরস্ত্র করে দিয়েছে, শত দলে ভাগ করে দিয়েছে, ভাইকে শত্রুতে পরিণত করেছে, কোন্দলের মাধ্যমে ফিৎনায় নিমজ্জিত করেছে, কাজের পরিবর্তে অকাজে ব্যস্ত করে দিয়েছে, আল্লাহর বিধানকে অপমান করেছে, আল্লাহর বিধানকে মানুষের (সাংসদের) অনুমোদনের বিষয় বানিয়েছে, মিশ্র অর্থনীতি তথা সূদী ও জুলূমবাজ অর্থনীতিতে ডুবিয়ে দিয়েছে, ক্ষমতার জন্য কামড়াকামড়িতে লিপ্ত করে দিয়েছে, দুনিয়ালোভী মোল্লাদের ইসলাম বিক্রি করে খাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে, কুরআন-সুন্নাহর অপব্যাখ্যার দ্বার উন্মোচিত করে দিয়েছে, অশ্লীলতা-বেহায়া পনার পথকে প্রসারিত করেছে, মুসলিমদের-মুমিন দের চলার পথ সংকীর্ণ করে দিয়েছে, আল্লাহর জমীনকে মানুষের জন্য সংকীর্ণ ও কণ্টকাকীর্ণ করেছে, মুসলিমদের আজ কোন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নাই, একটি নিয়মিত সেনা-বাহিনী নাই যারা জিহাদ করবে, একদল দাঈ ইলাল্লাহ নাই যারা আল্লাহর দিকে কাফেরদের আহবান করবে, কাফেররা মুসলিমদের হত্যা-নির্যাতন করলেও মুসলিমরা ওহ্ শব্দটিও উচ্চারণ করতে পারছে না, চতুর্দিক থেকে মুসলিমরা কোনঠাসা হয়ে গেছে, কাফেরদের বিশ্ব মোড়ল হিসেবে মানতে বাধ্য হচ্ছে, কাফের লিডারদের সন্তুষ্ট রাখতে বাধ্য হচ্ছে, তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে বাধ্য হচ্ছে, বিধর্মীদের অনুকরণ করতে বাধ্য হচ্ছে, তাদের সাথে বিভিন্ন চুক্তিতে আবদ্ধ থাকতে বাধ্য হচ্ছে ইত্যাদি।
স্বয়ং কাফেররাই এই গণতন্ত্রের প্রকৃত অসারতা উপলব্ধি করতে পারলেও হতভাগা মুসলিমরা আজও তা উপলব্ধি করতে পারছে না।গণতন্ত্র মূলত ইসলাম ও মুসলিমের বিরুদ্ধেই কার্যকরী। ইসলামের স্বপক্ষে এর কোন ভূমিকা-ই নাই। আধুনিক এই যুগেও ইসলামের সামান্য অনুসরণের মাধ্যমেও একমাত্র সৌদি-আরবে যে পরিমাণ শান্তি-স্থিতি-ন িরাপত্তা কায়েম রয়েছে, তা দেখে যে কোন ব্যক্তিমাত্রই উপলব্ধি করতে পারে যে, ইসলামের পূর্ণ অনুসরণ করতে পারলে তাতে কি পরিমাণ প্রভাব-প্রতিপত্ তি-শান্তি-নিরাপ ত্তা কায়েম হতে পারে ! সেই সাথে এটাও উপলব্ধি করতে পারবে যে, একমাত্র বাদশাহী শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমেই ইসলামের পূর্ণ অনুসরণে ইসলামী শাসনব্যবস্থার পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব ! আর অন্যান্য সকল মত-পথ-তন্ত্র যে এক্ষেত্রে একেবারেই অকার্যকর বরং হিতে বিপরীত, তাও উপলব্ধি করতে পারবে। সত্যিতো এটাই যে, বিষয়টা শুধুমাত্র উপলব্ধির-ই নয়, বরং এটিতো প্রমাণিত। বাদশাহী ব্যতীত এ যাবৎ কোথাও কেউ শান্তি কায়েম করতে পারেনি, পারবে ও না ।
Posted by
MD Mahmudul Hassan ashrafi
বাদশাহ ভালো মন্দ দুটোই হতে পারে। আল্লাহভীরু যেমন হতে পারে তেমনি আস্ত শয়তানও হতে পারে। বাদশাহ নিজের মন মত শাসন করতে পারেন অথবা আল্লাহর বিধান দিয়েও শাসন করতে পারেন। যদি বাদশাহ আল্লাহভীরু হয় এবং আল্লাহর বিধান দিয়ে শাসন করে তবে তার শাসন হবে খিলাফতের আদলে। নতুবা তার শাসনকাল শুধুই বাদশাহী-ই হয়ে থাকবে।
মুসলিমদের স্বর্ণালী যুগের ইতিহাস সৃষ্টি হওয়ার মূখ্য কারণ হচ্ছে বারো’শ বছর পর্যন্ত বাদশাহী শাসন ব্যবস্থা। যখনই গণতন্ত ও সমাজতন্ত্রের মধ্যে মুসলিমরা মুক্তি তালাশ করতে গেল-তখন থেকেই তাদের ধ্বংশের সিলসিলাহ চালু হলো যা আজো বিরাজমান।মুসলিম
গণতন্ত্র মুসলিমদের নিরস্ত্র করে দিয়েছে, শত দলে ভাগ করে দিয়েছে, ভাইকে শত্রুতে পরিণত করেছে, কোন্দলের মাধ্যমে ফিৎনায় নিমজ্জিত করেছে, কাজের পরিবর্তে অকাজে ব্যস্ত করে দিয়েছে, আল্লাহর বিধানকে অপমান করেছে, আল্লাহর বিধানকে মানুষের (সাংসদের) অনুমোদনের বিষয় বানিয়েছে, মিশ্র অর্থনীতি তথা সূদী ও জুলূমবাজ অর্থনীতিতে ডুবিয়ে দিয়েছে, ক্ষমতার জন্য কামড়াকামড়িতে লিপ্ত করে দিয়েছে, দুনিয়ালোভী মোল্লাদের ইসলাম বিক্রি করে খাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে, কুরআন-সুন্নাহর অপব্যাখ্যার দ্বার উন্মোচিত করে দিয়েছে, অশ্লীলতা-বেহায়া
স্বয়ং কাফেররাই এই গণতন্ত্রের প্রকৃত অসারতা উপলব্ধি করতে পারলেও হতভাগা মুসলিমরা আজও তা উপলব্ধি করতে পারছে না।গণতন্ত্র মূলত ইসলাম ও মুসলিমের বিরুদ্ধেই কার্যকরী। ইসলামের স্বপক্ষে এর কোন ভূমিকা-ই নাই। আধুনিক এই যুগেও ইসলামের সামান্য অনুসরণের মাধ্যমেও একমাত্র সৌদি-আরবে যে পরিমাণ শান্তি-স্থিতি-ন
Posted by
MD Mahmudul Hassan ashrafi

Comments
Post a Comment